ঈদের ছুটিতে সিডিএ প্রকৌশলীর গাড়ির অপব্যবহার: সাংবাদিককে হত্যার হুমকি!


বিশেষ প্রতিনিধি, (চট্টগ্রাম): চট্টগ্রামে সরকারি যানবাহনের অপব্যবহার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। সিডিএ নির্বাহী প্রকৌশলী আ. হ. ম. মিছবাহ উদ্দীনের নামে বরাদ্দকৃত পাজেরো জিপ (চট্টমেট্রো-ঘ-১১-১২৯৬) নিয়মিতভাবে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা সরকারি নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি ছুটির দিন কিংবা অফিস সময়ের পরে কর্মকর্তা কর্তৃক ব্যবহৃত গাড়ি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পার্কিংয়ে থাকার কথা। তবে বাস্তবে অনেকেই সেই নিয়ম মানেন না। নির্বাহী প্রকৌশলী মিছবাহ উদ্দীনের গাড়িচালক মহিউদ্দিন নিয়মিতভাবে এই গাড়ি পারিবারিক কাজে ব্যবহার করে আসছেন। শুধু তাই নয়, গাড়িতে ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড ব্যবহারের নিয়ম থাকা সত্ত্বেও তিনি বিধিবহির্ভূতভাবে এটি ব্যবহার করে প্রশাসনকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলছেন।

গাড়িচালক মহিউদ্দিন একাধিক মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ৩-৪টি মামলা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মহিউদ্দিন শুধু একজন গাড়িচালকই নন, তিনি সিডিএ কর্মচারী লীগে সহ-সভাপতি এবং সিডিএ এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশনের (জাতীয় শ্রমিক লীগের অন্তর্ভুক্ত) সভাপতি পদেও আছেন। এই পদকে কাজে লাগিয়ে তিনি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও পাত্তা দেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ২১শে মার্চ মহিউদ্দিনের এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে "সিডিএর ড্রাইভার মহিউদ্দিন, ঘুষের টাকায় বিলিয়নীয়ার!" শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর থেকে সময়ের কণ্ঠস্বরের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট (চট্টগ্রাম) গাজী গোফরানকে নিয়মিতভাবে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। অবশেষে ২ এপ্রিল (ঈদের তৃতীয় দিন) সেই হুমকির বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়।

সাংবাদিক গাজী গোফরান এবং অপরাধ ঘোষণা’র বিশেষ প্রতিনিধি মো. জিয়াউল হক ব্যক্তিগত কাজে বাকলিয়া থানাধীন মিয়াখান নগর এলাকায় গেলে সেখানে নির্বাহী প্রকৌশলী মিছবাহ উদ্দীনের পাজেরো জিপটি দেখতে পান এবং সেটির ভিডিও ধারণ করেন। এই ঘটনায় গাড়িচালক মহিউদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকেন।

পরে সাংবাদিক গাজী গোফরান বাইক চালিয়ে কালামিয়া বাজার মোড়ে পৌঁছালে মহিউদ্দিন তার পাজেরো জিপ দিয়ে বাইককে ধাক্কা দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালান। বাইক রাস্তার পাশে পড়ে গেলেও দুই আরোহী বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পান। এরপরও মহিউদ্দিন পুনরায় বাইকের সামনে এসে বলেন, "আজকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছিস, আরেকদিন সামনে পেলে একদম পিষে মেরে ফেলবো। আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করার মজা তখন টের পাবি।"

গাড়িতে মহিউদ্দিনের সঙ্গে এক যুবক এবং কয়েকজন নারীও ছিলেন। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মিছবাহ উদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমি বাসায় আছি, গাড়ি নিয়ে কোথাও বের হইনি। হয়তো চালক মহিউদ্দিন পরিবার নিয়ে কোথাও গেছেন।"

সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়ি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "এটাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।"

এই ঘটনার পর সাংবাদিক গাজী গোফরান বাকলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ০২/০৪/২০২৫ তারিখে করা এই জিডির নম্বর ৯৪।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ